ডা. জাহেদের প্রতি অসদাচরণ নতজানু পররাষ্ট্র নীতির ফল: এ্যাড. মোঃ ইয়ারুল ইসলাম

প্রকাশিত: 12:11 pm, June 16, 2026 | আপডেট: 12:11 pm,

ডা. জাহেদের প্রতি অসদাচরণ নতজানু পররাষ্ট্র নীতির ফল: এ্যাড. মোঃ ইয়ারুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাড. মোঃ ইয়ারুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, একজন সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ কেবল ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং বাংলাদেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতিও অবমাননাকর। তিনি দাবি করেন, সরকারের নতজানু ও দুর্বল পররাষ্ট্র নীতির কারণেই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে পুশইন ইস্যুতে ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের অবস্থানের প্রতি সহনশীল বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরও তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে একতরফা তোষণমূলক অবস্থান কখনোই পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করতে পারে না।”

ইয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, “ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে এসে অখণ্ড ভারতের ধারণার পক্ষে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান ও শক্ত কোনো কূটনৈতিক প্রতিবাদ দেখা যায়নি। এর ফলে ভুল বার্তা গেছে যে বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে যথেষ্ট দৃঢ় অবস্থান নিতে আগ্রহী নয়।”

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে জাতীয় মর্যাদা বিসর্জন দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে দেশের স্বার্থ ও জনগণের সম্মান।”

উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বিমানবন্দরে প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বেদেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, “জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সরকারকে আরও দৃঢ়, আত্মমর্যাদাশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যাবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দেশের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *