নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অস্ত্র ফেরত পেতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ সোহাগের

প্রকাশিত: 3:06 pm, September 24, 2026 | আপডেট: 3:06 pm,

নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অস্ত্র ফেরত পেতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ সোহাগের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অপহরণের ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পরও নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থানায় জমা রাখা বৈধ লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত চেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নারায়ণগঞ্জ বরাবর করা আবেদনে তিনি নিজের জীবন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে বৈধ লাইসেন্সকৃত পিস্তল ও শটগান ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এর আগে একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন করেছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আবেদনে মোহাম্মদ সোহাগ উল্লেখ করেন, তার নামে বৈধ লাইসেন্সকৃত একটি পিস্তল ও একটি শটগান রয়েছে। সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্র দুটি ফতুল্লা মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় সেগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।

আবেদনে সোহাগ দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। পরদিন ২ জুন পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকার কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় করা হয় বলে আদালতসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আমলি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে বলে আদালতসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করলেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ সোহাগ। তার দাবি, অপহরণের ঘটনার পর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কারণে নিজের জীবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত পাওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, অস্ত্র ফেরত পাওয়ার বিষয়ে এর আগেও ২০২৫ সালের ২৯ মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নারায়ণগঞ্জের কাছে আবেদন করেছিলেন সোহাগ। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির কাছেও এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর আবারও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন।

অপহরণ মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করলেও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এবং আসামিদের দায় আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে মো. আল আমিন শেখ ওরফে জিতু, মো. কবির হালদার, লতিফ সিদ্দিকী রতন, সাব্বির আহমেদ, ইরান হোসেন মোহন, মো. সাকিব হোসেন ও মো. ছাহাদ গণের নাম রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও ব্যবসাকেন্দ্র। এমন প্রেক্ষাপটে একজন ব্যবসায়ী নেতা অপহরণের শিকার হওয়ার পর পুনরায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করার বিষয়টি ব্যবসায়ী মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ সোহাগের আবেদনের বিষয়ে এখন জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে তার বৈধ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *