মুজিবনগর দিবসে ন্যয়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার– মুক্তিজোটের

প্রকাশিত: 11:38 pm, April 16, 2026 | আপডেট: 11:38 pm,

মুজিবনগর দিবসে ন্যয়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার– মুক্তিজোটের

মুজিবনগর সরকার ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকারনির্ভর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল ১৬ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, সংগ্রামীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—ন্যায়বিচার, সমতা, আইনের শাসন ও ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়া এই অঙ্গিকার পূর্ণ হতে পারে না।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন মুজিবনগর সরকার ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বৈধ ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই চেতনা গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মুজিবনগর সরকারের ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকারনির্ভর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শকে স্লোগানে নয়, বাস্তবে ফিরিয়ে আনার অঙ্গিকারও করেন তাঁরা।

প্রসঙ্গতঃ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় স্বশস্ত্র গণযুদ্ধের সাথে কূটনৈতিক যুদ্ধের মেল-বন্ধন তথা রাজনৈতিক দিক থেকে নিজেদের জাতিগত অস্তিত্ব-অবস্থানকে সংহত ও বিশ্ব দরবারে জাতীয় আত্ম-পরিচয় প্রকাশ বা জানান দেয়াটাও জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ স্বাধীন ভূখন্ড তথা সার্বভৌম রাষ্ট্রের অনিবার্য শর্ত ‘একটি সরকার’।

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন, পলাশীর আম্রকাননে- বাংলার শাসন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেশীয় ষড়যন্ত্র আর বিদেশী চতুরতার মাধ্যমে হাতছাড়া হয়েছিল; প্রায় ২১৪ বছর পর ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তেমনি এক আম্রকানন বৈদ্যনাথতলায় বাংলার শাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয়- স্বাধীন বাংলার প্রথম সরকার।

স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী জাতীয় সরকার ‘আন্তর্জাতিক’ ও ‘জাতীয় ক্ষেত্রে’ মুক্তিযুদ্ধকে নতুন মাত্রা দিয়ে দ্রুত পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতে থাকে।

অবশেষে ২৬শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা, প্রায় নয় মাসের এই রক্তাক্ত যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষের তাজা প্রাণ আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হারিয়ে- পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে- সবুজ ঘেরা সূর্যস্পর্শিত রক্ত স্মারক-এর স্পর্ধিত পতাকা হাতে বাংলা ঘোষণা করে নিজের সদম্ভ অস্তিত্ব।

আর ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর হয়ে ওঠে আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের রক্ত স্তম্ভে অঙ্কিত মহান বিজয় দিবস।

বাংলার প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দক্ষ ও সফল জাতীয় সরকারের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠে।

জাতীয় সরকারের প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামের প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে তাজউদ্দিন আহমেদ নিপুণ দক্ষতা ও ক্ষীপ্রতায় এই সরকারকে যেভাবে সমন্বিত ও একাট্টা করে জাতীয় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বিশেষতঃ বৈশ্বিক বা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে মার্কিন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কমরেড মনি সিং, সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানকে যেভাবে দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছিলেন- তা ছিল যুগান্তকারী। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো দেয়াতে পাকিস্তান-মার্কিন-চীন বারবার মুখ ধুবড়ে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে না পেরে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিনের যুদ্ধযাত্রায় প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ ঘোষণা ছিল তৎসময়ে বিশ্বযুদ্ধ ঘোষণার সমার্থক।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *